17 Apr 2026 +880 1886 456688
image

Laws & Rules

স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন, ২০০৯
Click here for Deep-Dive

স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন, ২০০৯

ত্রয়োদশ অধ্যায় : সরকারের ক্ষমতা ( স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন, ২০০৯ )
৭১। পরিষদের রেকর্ড, ইত্যাদি পরিদর্শনের ক্ষমতা

(১) সরকার বা সরকার কর্তৃক ক্ষমতা প্রাপ্ত যে কোন কর্মকর্তা পরিষদকে নিম্নরূপ নির্দেশ দিতে পারিবে, যথাঃ-

(ক) পরিষদের হেফাজতে বা নিয়ন্ত্রণাধীন যে কোন রেকর্ড, রেজিস্টার বা অন্যান্য নথিপত্র উপস্থাপনঃ

তবে শর্ত থাকে যে, প্রয়োজনে এই সকল রেকর্ড, রেজিস্টার বা নথিপত্রের ফটোকপি রাখিয়া মূল কপি ৯০ (নব্বই) দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট পরিষদে ফেরত দিতে হইবে;

(খ) যে কোন রিটার্ন, প্ল্যান, প্রাক্কলন, আয়-ব্যয় বিবরণী ইত্যাদি দাখিল;

(গ) পরিষদ সংশ্লিষ্ট যে কোন তথ্য বা প্রতিবেদন সরবরাহ।

(২) পরিষদের আয়ের উৎস হিসাবে কোন দাবি পরিত্যাগ বা কোন প্রতিষ্ঠান বন্ধ করিয়া দেওয়ার পূর্বে সরকারের পূর্বানুমতি গ্রহণ করিতে হইবে।

(৩) ডেপুটি কমিশনার বা তৎকর্তৃক ক্ষমতা প্রাপ্ত যে কোন কর্মকর্তা যে কোন পরিষদ এবং পরিষদের নথিপত্র, স্থাবর অস্থাবর সম্পত্তি, সমাপ্ত ও চলমান উন্নয়ন প্রকল্পসহ যে কোন নিমার্ণ কাজ পরিদর্শন করিতে পারিবেন।

1[(৪) পরিষদের চেয়ারম্যান, ইউনিয়ন পরিষদ প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও অন্যান্য কর্মকর্তা বা কর্মচারী উপ-ধারা (১) এ বর্ণিত সরকার বা ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে সহযোগিতা করিতে বাধ্য থাকিবেন।]

(৫) সরকার, নির্ধারিত পদ্ধতিতে, নির্দিষ্ট সময় পর পর প্রত্যেক পরিষদের প্রশাসনিক কাযর্ক্রম সংক্রান্ত পারফরমেন্স অডিট সম্পন্ন করিবে।

৭২। কারিগরি তদারকি ও পরিদর্শন

সরকার কর্তৃক নির্ধারিত পদ্ধতিতে কোন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান এবং তৎকর্তৃক মনোনীত কারিগরি কর্মকর্তাগণ পরিষদের মাধ্যমে বাস্তবায়নাধীন উক্ত বিভাগের উন্নয়ন প্রকল্পসমূহ এবং সংশ্লিষ্ট রেকর্ড ও নথিপত্র পরিদর্শন করিতে পারিবেন।

৭৩। সরকারের দিক নির্দেশনা প্রদান এবং তদন্ত করিবার ক্ষমতা

(১) এই আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, সরকার, সরকারের নীতির সাথে সঙ্গতি রাখিয়া যে কোন পরিষদকে আর্থিক ব্যবস্থাপনা, কর্মকর্তা ও কর্মচারী ব্যবস্থাপনা, বিভিন্ন প্রকার প্রকল্প প্রণয়ন ও প্রকল্পের উপকারভোগী নির্বাচন, পরিষদ ও ওয়ার্ড সভার কার্যক্রম পরিচালনা, ইত্যাদি বিষয়ে দিক নির্দেশনা প্রদান করিতে পারিবে, এবং পরিষদ উক্তরূপ দিক নির্দেশনা বাধ্যতামুলকভাবে অনুসরণ করিবে

(২) কোন প্রকল্প বাস্তবায়ন বা কোনরূপ আর্থিক অনিয়ম বা পরিষদের অন্য যে কোন অনিয়মের বিষয়ে প্রাপ্ত অভিযোগ সরকার বা সরকার কতৃর্ক নিযুক্ত এক বা একাধিক কর্মকর্তা তদন্ত করিতে পারিবেন এবং সংশ্লিষ্ট পরিষদ উক্ত তদন্ত কাজ পরিচালনায় সহযোগিতা করিবেন

(৩) উপ-ধারা (২) অনুযায়ী তদন্ত সম্পাদনের পর তদন্তের ফলাফলের উপর ভিত্তি করিয়া সরকার, এই আইনের বিধান সাপেক্ষে, দায়ী ব্যক্তি, কর্মকর্তা ও কর্মচারী বা পরিষদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে পারিবে।

৭৪। পরিষদ, পরিষদের চেয়ারম্যান, সদস্য ও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ

(১) যদি সরকারের নিকট এই মর্মে প্রতীয়মান হয় যে, কোন পরিষদ বা পরিষদের চেয়ারম্যান, সদস্য ও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা এই আইন বা সরকারের অন্য কোন আদেশ দ্বারা নির্ধারিত দায়িত্ব সম্পাদনে ব্যর্থ হইয়াছে, তাহা হইলে, সরকার অথবা সরকার কর্তৃক নির্ধারিত কর্তৃপক্ষ লিখিত আদেশ দ্বারা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে উক্তরূপ দায়িত্ব পালনের জন্য পরিষদ বা চেয়ারম্যানকে নির্দেশ দিতে পারিবে।

(২) উপ-ধারা (১) অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দায়িত্ব সম্পাদনে বা আদেশ পালনে ব্যর্থ হইলে সরকার সংশ্লিষ্টদের যুক্তিসংগত সুযোগ প্রদান করিয়া, কারণ দর্শাইবেন এবং উক্তরূপ দায়িত্ব সম্পাদন বা আদেশ পালনের জন্য যে কোন কর্মকর্তা বা কতৃর্পক্ষকে দায়িত্ব পালনার্থে নিয়োগ করিবেন এবং এতদ্‌সংশ্লিষ্ট আর্থিক সংশ্লেষ, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে, পরিষদের তহবিল বা সংশ্লিষ্টদের ব্যক্তিগত তহবিল হইতে বহনের নির্দেশ প্রদান করিবেন।

৭৫। পরিষদের সিদ্ধান্ত, কার্যবিবরণী, ইত্যাদি বাতিল বা স্থগিতকরণ

(১) সরকার স্বয়ং অথবা পরিষদের চেয়ারম্যান বা সদস্য বা দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বা অন্য কোন ব্যক্তির আবেদনের প্রেক্ষিতে পরিষদের যে কোন কার্যবিবরণী বা সিদ্ধান্ত বাতিল বা স্থগিত করিতে পারিবে, যদি উক্তরূপ সিদ্ধান্ত বা কার্যবিবরণী-

(ক) আইনসংগতভাবে গৃহীত না হইয়া থাকে;

(খ) এই আইন বা অন্য কোন আইনের পরিপন্থী বা অপব্যবহারমূলক হইয়া থাকে;

(গ) মানুষের জীবন, স্বাস্থ্য, জননিরাপত্তা এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি হুমকির সম্মুখীন করে অথবা দাঙ্গা বা ঝগড়া-বিবাদের সৃষ্টির সম্ভাবনা সৃষ্টি করে; অথবা

(ঘ) সরকার কর্তৃক জারিকৃত দিকনির্দেশনামূলক সিদ্ধান্তের পরিপন্থী হয়।

(২) উপ-ধারা (১) অনুযায়ী কোন সিদ্ধান্ত বা কার্যবিবরণী বাতিল বা স্থগিত করিবার পূর্বে সরকার সংশ্লিষ্ট পরিষদকে যথাযথ শুনানির সুযোগ দিয়া উক্ত শুনানীর ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট পরিষদের কার্যবিবরণী বা সিদ্ধান্ত বাতিল বা সংশোধন বা চূড়ান্ত করিবে

(৩) উপ-ধারা (১) অনুযায়ী পরিষদের কোন সিদ্ধান্ত বা কার্যবিবরণী বাতিল বা সংশোধন করা প্রয়োজন মনে করিলে, উপ-ধারা (২) অনুযায়ী চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের পূর্ব পর্যন্ত সরকার সাময়িকভাবে উক্ত কার্যবিবরণীর সিদ্ধান্ত স্থগিত করিতে পারিবে।

৭৬। পরিষদের বার্ষিক, আর্থিক ও প্রশাসনিক প্রতিবেদন

(১) পরিষদ প্রত্যেক বৎসর সরকার কর্তৃক নির্ধারিত ফরমে ও পদ্ধতিতে পরিষদের বার্ষিক, আর্থিক ও প্রশাসনিক প্রতিবেদন প্রস্তুত করিবে এবং পরবর্তী বৎসরের ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে উহা সরকারের নিকট প্রেরণ করিবে।

(২) উপ-ধারা (১) এ প্রদত্ত নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন প্রকাশ করিতে না পারিলে সরকার পরিষদের অনুকূলে অনুদান প্রদান স্থগিত রাখিতে পারিবে

(৩) পরিষদের সচিব চেয়ারম্যানের সঙ্গে পরামর্শক্রমে উক্ত প্রতিবেদন প্রস্তুত করিবেন এবং উহা চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য পরিষদের সভায় উপস্থাপন করিবেন।

(৪) ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক প্রতিবেদন উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট প্রেরণ করিতে হইবে এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসার সমন্বিত প্রতিবেদন সরকার কর্তৃক নির্ধারিত ছকে ডেপুটি কমিশনারের নিকট প্রেরণ করিবেন এবং ডেপুটি কমিশনার সমন্বিত প্রতিবেদন নির্ধারিত ছকে সরকারের নিকট প্রেরণ করিবেন।

(৫) সরকার উপ-ধারা (৪) অনুসারে প্রাপ্ত সমন্বিত বার্ষিক প্রতিবেদন সংসদের পরবর্তী অধিবেশনে উপস্থাপন করিবে।

৭৭। পরিষদ বাতিল ও পুনঃনির্বাচন

(১) সরকার নিম্নলিখিত কারণে যথাযথ তদন্তপূর্বক সরকারি গেজেট প্রজ্ঞাপন দ্বারা পরিষদ বাতিল করিতে পারিবে, যথাঃ

(ক) নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পরবর্তী অর্থ বৎসরের বাজেট পাশ করিতে ব্যর্থ হইলে; অথব

(খ) পরিষদের ৭৫% (শতকরা ৭৫ ভাগ) নির্বাচিত সদস্য পদত্যাগ করিলে; অথবা

(গ) পরিষদের ৭৫% (শতকরা ৭৫ ভাগ) নির্বাচিত সদস্য এই আইনের অধীন অযোগ্য হওয়ার কারণে অপসারিত হইলে ; অথবা

(ঘ) পরিষদ ক্ষমতার অপব্যবহার করিলে; অথবা

(ঙ) সরকারের বিবেচনায় কোন পরিষদ এই আইন ও অন্যান্য আইন বা বিধি এবং সরকারের সার্কুলার, পরিপত্র ইত্যাদির মাধ্যমে অর্পিত দায়িত্ব পালনে ধারাবাহিকভাবে ব্যর্থ হইলেঃ

তবে শর্ত থাকে যে, পরিষদ বাতিল করিবার পূর্বে পরিষদকে যুক্তিসংগতভাবে শুনানীর সুযোগ দিতে হইবে।

(২) উপ-ধারা (১) অনুযায়ী পরিষদ বাতিলের আদেশ প্রজ্ঞাপন জারীর তারিখ হইতে কার্যকর হইবে এবং গেজেট প্রজ্ঞাপনের কপি নির্বাচন কমিশনে প্রেরণ করিতে হইবে।

(৩) উপ-ধারা (১) অনুযায়ী প্রজ্ঞাপন জারীর তারিখ হইতে পরিষদের চেয়ারম্যান ও সকল সদস্যের আসন শূন্য হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে এবং উক্ত আসন শূন্য হইবার অন্যূন ১৮০ (একশত আশি) দিনের মধ্যে পুনঃনির্বাচন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে পরিষদ পুনর্গঠিত হইবে

(৪) পুনর্গঠিত পরিষদের সদস্যগণ পরিষদের অবশিষ্ট মেয়াদের জন্য নির্বাচিত হইবেন এবং দায়িত্ব পালন করিবেন

(৫) পরিষদ বাতিল হইবার এবং পুনর্গঠিত হইবার অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে সরকার কতৃর্ক নিযুক্ত একটি প্রশাসনিক কমিটি পরিষদের যাবতীয় কার্যক্রম পরিচালনা করিবে

(৬) পরিষদের সকল সম্পদ ও দায় উপ-ধারা (৪) অনুযায়ী পুনর্গঠিত পরিষদের উপর দায়িত্ব গ্রহণের পর হইতে পরিষদের অবশিষ্ট মেয়াদকাল পর্যন্ত এবং উপ-ধারা (৫) অনুযায়ী গঠিত প্রশাসনিক কমিটির উপর দায়িত্ব গ্রহণের তারিখ হইতে পরিষদ পুনর্গঠন হওয়া পর্যন্ত বর্তাইবে।

img